জুয়ার বিজ্ঞাপনে ডিপফেকের শিকার ড. ইউনূস ও শাকিব খান!

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপপ্রচারের শিকার অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনুস। কয়েকদিন থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার একটি ডিপফেক ভিডিও দেখা যাচ্ছে। যেখানে জুয়ার সাইটে তাকে বলতে শোনায় “আমি আপনাদের জন্য একটি নতুন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ক্রেজি টাইম একটি নিরাপদ যা সহজ নিবন্ধনের জন্য কাজ করে। প্রথম দিনেই মাত্র ৫ টাকা বিনিয়োগ করে আপনি এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
উদ্বেগের বিষয় হলো সাধারনত ডিপফেক ভিডিওগুলো অনেক সময় খালি চোখেও দেখে সনাক্ত করা যায় কিন্ত এই ভিডিওতে প্রযুক্তিকে এমন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে বোঝা মুশকিল যে ভিডিওটি নকল।
ইনফোসেকবুলেটিনের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের সুপারস্টার স্টার খ্যাত শাকিব খানেরও একটি ডিপফেক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। যেখানে তাকে ক্রেজি টাইম গেইম খেলতে আহ্বান করতে দেখা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ডিসমিসল্যাব। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ।
এছাড়া মেটার পলিসি বলছে, যেসব দেশের আইনে জুয়া নিষিদ্ধ, সেসব দেশে বিজ্ঞাপন চালাবে না মেটা। কিন্তু মেটার অ্যাড রিভিউ সিস্টেমের দূর্বলতাকে ব্যবহার করে দেদারছে চলছে এসব বিজ্ঞাপন। গত সেপ্টেম্বর থেকে এমন ৯ টি ভিডিও সনাক্ত করেছে ডিসমিসল্যাব নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
ডিসমিল্যাবের গবেষণা বিভাগের প্রধান মিনহাজ আমান বলেন, এবারের ভিডিওর ক্ষেত্রে কেবল অডিওই নয়, ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা মনে করি আগের ভিডিওর থেকেও অত্যন্ত সুনিপুন। এসব বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আরও ১৩০ টি সাইট পাই, এর অর্থ কেউ এর পেছনে অর্থ যোগাচ্ছে। “এই জাতীয় প্রচার বেশিরভাগ দেশের বাইরে চলে যায়। আমার আগের অভিজ্ঞতা থেকে, আমি বলতে চাই যে এই জাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচার ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত হতে পারে”।
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর দৌরাত্ব বাড়ছে। এর শিকার হচ্ছে রাজনীতিবিদ, খেলোয়ার, গ্ল্যামার জগতসহ অনেকেই।
এসব ডিপফেক ভিডিও চিনতে অঙ্গভঙ্গি, লিপসিং বা কথা বলার সাথে ঠোঁটের মিল এবং ভিডিওটির প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
বিভি/ এসআই
মন্তব্য করুন: